
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সম্প্রতি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সাধারণ খাবারও খান তিনি।
একজন সংসদ সদস্য হয়ে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়া ও হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার খেয়ে এনামুল হক প্রশংসায় ভাসছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার খাওয়ায় অনেকেই তাঁর প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে প্রশংসা করেন।
ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার সরকার বলেন, ‘গত সোমবার সকাল ৮টা ৪৫ কিংবা ৫০ মিনিটের দিকে এমপি মহোদয় কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। উনি গ্যাস্ট্রিক ও হাইপার টেনশনজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন দুপুর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারও খান। হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি আমাদের সেবার প্রশংসা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উনি আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এটাই বড় বিষয়। এ ধরণের লোকজন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে সাধারণ মানুষেরা সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা পাবেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য এনামুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি চাইলে পাশ^বর্তী জয়পুরহাট কিংবা নওগাঁয় কোনো বড় হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে পারতাম। কিন্তু আমার এলাকার মানুষ সার্বক্ষণিক যেখানে চিকিৎসা নেন সেখানেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন আমি অনেকটাই সুস্থ। আমার বিশ্বাস সীমিত সক্ষমতা নিয়েও হাসপতালের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফরা আন্তরিক হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।’
সংসদ সদস্য এনামুল হকের হাসপাতালের বেডে খাবার খাওয়ার একটি ছবি পোস্ট করে তাসলিমা পারভীন নামের একজন লিখেন, ‘ইনি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। নওগাঁ-২ আসনের নির্বাচিত এমপি। হঠাৎ শারিরীক অসুস্থতায় তিনি দেশের নামকরা হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি নামি-দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছুটে যাননি। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভরসা করেছেন সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর। সাধারণ রোগীদের বেডে থেকেছেন। খেয়েছেন রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সাধারণ খাবার। বিষয়টা অসাধারণ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দেশের মন্ত্রী-এমপিরা অসুস্থ হলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। তাঁদের ছেলে-মেয়েরা স্থানীয় সরকারি স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করবে। দেশের আর ১০ জন সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করবেন। এমন চিত্র আমরা সারা দেশে দেখতে চাই।’
মাসুদ রানা নামের আরেকজন তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেন, ‘একজন এমপি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া কিংবা হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সাধারণ খাবার খাচ্ছেন এটা আমাদের দেশে কল্পনার বাইরে। কিন্তু আমাদের আসনের এমপি সেটাই করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় কাজ। তার মতো অন্যান্য এমপি-মন্ত্রী কিংবা ডিসি-ইউএনও থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে দেশের চিকিৎসাসেবার চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’