
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নওগাঁর রানীনগরে ইদ উপহার হিসেবে ভিজিএফ এর চাল উপকারভোগীদের মাঝে কম বিতরন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়ন থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।
জানা যায়, ইদকে সামনে রেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হতে প্রাপ্ত চালগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৪হাজার ৮শত ৬০টি অসহায় ও দু:স্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ১০কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিটার ইউনিয়নের গত রোববার চাল বিতরনের সময় জন প্রতি ১০ কেজির জায়গায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল বিতরন করা হয়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরাট ইউনিয়বের জামালগঞ্জ বাজারে তিনটি ওয়ার্ডের চাল বিতরন করা হচ্ছে। দেখা যায় সবাই ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল নিয়ে যাচ্ছে। সবাই আক্ষেপ করে বলছে, গরিব মানুষ সবসময় বঞ্চিত হয়, এবারও হচ্ছি।
অভিযোগ উঠেছে সবার যোগসাজোগে চাল অন্যত্র সরিয়ে গরিব ও অসহায় মানুষকে চাল কম দেওয়া হয়েছে।
চাল নিতে আসা সখিনা বিবি বলেন, আমাদের ১০ কেজি চাল দেবার কথা বলে এখন চাল কম আছে বলে ৮/৯ কেজি করে দিচ্ছে।
শুধু সখিনা বিবি নয়, তার মত হাজরা বেগম, সুফিয়া চাল নিতে এসেছেন মিরাট ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ইউপি সদস্য বাদেশের কাছে। কম চাল পেয়ে মনভার করে চলে যাচ্ছেন তারা। তাদের কথা- “হামাকক যা দিচ্ছে তাই নিয়া যাচ্ছি, গরিব মানুষ প্রতিবাদ করমু কার কাছে। কে হ্যামাকে কথা শুনবে।“
আজাদ হোসেন বলেন, আমরা সকাল থেকে প্রায় তিন ঘন্টা বসে থেকে কম চাল পাচ্ছি। কিছু বললে তারা কম চাল পাইছে বলে আমাদের কম দিচ্ছে। আমরা কার কাছে কি বলব। যা দিচ্ছে তাই নিয়ে চলে যাচ্ছি।
৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদেশ বলেন, আমরা আইসিটি অফিসারের সামনে সব চালের বস্তাইয় ২ থেকে ৩ কেজি কম পেয়েছি। কিছু বস্তায় ঠিক থাকলেও বেশিরভাগ বস্তায় কম রয়েছে। আমরা যেহেতু কম পেয়েছি তাই সবাইকে একটু কম বিতরন করছি।
৫ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আজাদ হোসেন বলেন, আইসিটি চেয়ারম্যান আমদেরকে সাড়ে ৯ কেজি দেবার কথা বলে গেছে। বস্তায় চাল কম থাকার কারনে কম দিচ্ছি। লোকজন ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাক পাচ্ছে এমন অভিযোগে তিনি আর কোন কথা বলে নি।
আব্দুস সালাম ৬ নাম্বার ইউপি সদস্য। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান- আমরা বেশিরভাগ বস্তায় কম চাল পেয়েছি। কম চাল পাবার কারনে ১-২ কেজি চাল কম দিতে হচ্ছে। আমরা চাল কম না দিলে নিজের টাকা দিয়ে কিনে তাদেরকে বিতরন করতে হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ রানীনগর খাদ্য গুদাম থেকে চাল কম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রানীনগর খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি থেকে চাল কম দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রানীনগর খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি তারানা আফরিনের কাছে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
চাল কম দেবার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, চাল বিতরন বিভিন্ন দপ্তর সম্মলিত ভাবে কাজ করছে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মানুষের মাঝে বিতরন করছে। আমি এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।