
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহারে এক নাবালক শিশুকে প্রথমে জুস-চকোলেটের প্রলোভন ও পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নিজের বাড়ি থেকেই ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মূল প্রতারক মো. মোজাম্মেল হক ওরফে রায়হান শাহ (২১) এবং চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে অঙ্গরাজ জুয়েলার্সের মালিক শ্রী উজ্জ্বল কুমারকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। এর আগে ভুক্তভোগী উজ্জ্বল কুমার সাহার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সাপাহার থানা পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল কুমার সাহার নাবালক ছেলে কুশল সাহাকে লক্ষ্যবস্তু বানায় প্রতারক রায়হান। গত কয়েক মাস ধরে সে শিশুটিকে কখনও জুস, বিস্কুট ও চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে, আবার কখনও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসতে বাধ্য করে। এভাবে দফায় দফায় সে মোট ১২ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়।
গ্রেফতারকৃত রায়হান পোরশা উপজেলার ঠনঠনিয়াপাড়ার মো. আঃ হালিমের ছেলে। সে বর্তমানে সাপাহার ইউপিপাড়ায় জনৈক জুয়েলের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান স্বীকার করে যে, হাতিয়ে নেওয়া এসব স্বর্ণ সে পত্নীতলা থানা রোডের ‘অঙ্গরাজ জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্রী উজ্জ্বল কুমারের কাছে ধাপে ধাপে বিক্রি করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পত্নীতলার ছোট চাঁদপুর গ্রামের মৃত মদন মোহনের ছেলে জুয়েলারি মালিক উজ্জ্বল কুমারকেও গ্রেফতার করে। উজ্জ্বল কুমারও পুলিশের কাছে স্বর্ণ ক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অভিযানকালে পুলিশ রায়হানের কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করেছে। সাপাহার থানা পুলিশ জানায়, রায়হান একজন পেশাদার অপরাধী এবং ইতিপূর্বেও সে একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করেছিল।
সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনারুল ইসলাম জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল অপরাধীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। চুরিকৃত বাকি স্বর্ণ উদ্ধার এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
নিজের বাড়ির শিশুকে ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে এমন অভিনব কায়দায় স্বর্ণ চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সুপার এই ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন।