
প্রতিনিধি,বদলগাছী(নওগাঁ):-
সাধারণত ইঞ্জিনিয়ার বা নক্সাকাররা রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা করেন, কিন্তু নওগাঁর বদলগাছী এলজিইডি অফিসের নক্সাকার রুকুনুজ্জামান সাহেব দেখালেন এক অনন্য প্রতিভা—কীভাবে ‘নক্সা’ দিয়ে ১২ পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা গায়েব করে দিতে হয়! রাস্তা গায়িব করায় বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় হঠাৎ করেই থমকে গেছে ১২টি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাদের একমাত্র চলাচলের পথটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের এক নক্সাকারের বিরুদ্ধে।যিনি কাগজে-কলমে মানুষের চলাচলের পথ সুগম করার 'নকশা' করেন, আজ তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে বাস্তবের একটি সচল রাস্তা 'মুছে' ফেলার।
গত শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) উপজেলার চাকরাইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় ১২ পরিবারের চলাচলের এক মাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয় এলজিইডি অফিসের নক্সাকার রুকুনুজ্জামান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আব্দুল কাদের নামে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাকরাইল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২টি পরিবার একটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে যাতায়াত করে আসছিল। হঠাৎ করেই ওই রাস্তায় তারকাটা দিয়ে বন্ধ করে দেন বদলগাছী এলজিইডি অফিসের নক্সাকার রোকনজ্জামান। এতে করে পরিবারগুলো তাদের দৈনন্দিন চলাচল, স্কুল-কলেজে যাওয়া, কৃষি পণ্য আনা নেওয়া, এমনকি জরুরি রোগীর জন্য চিকিৎসা সেবা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করে আসছি। বদলগাছী এলজিইডি অফিসের নক্সাকার রুকুনুজ্জামান এবং তার চাচাতো ভাইয়েরা আমাদের চলাচলের রাস্তা গাছের খুঁটি পুতে ও তারকাটা দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এতে করে প্রয়োজনীয় কোন কিছু ভ্যানে করে বাড়ী নেওয়া হচ্ছে না। আমার চাচা খুবই অসুস্থ যেকোন সময় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।প্রায় এক কিলোমিটার ফসলের মাঠ পাড়ি দিয়ে পাকা রাস্তায় উঠাতে হবে, যা অত্যন্ত কষ্টকর।”
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রায় ৬০ বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ ভ্যানগাড়ী,পাওয়ার টিলার নিয়ে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তারা এখন আর যাইতে দিবে না। ঔই রাস্তার এক পাশে এলজিইডি অফিসের নক্সাকারের পায়খানার স্লাব অন্য পাশে তার ভাই গাছের খুঁটি দিয়ে তারকাটা দিয়েছে। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত এলজিইডি অফিসের নক্সাকার রুকুনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি রাস্তাটি বন্ধ করিনি। আমার শরিকের লোকজনেরা পায়ে হাঁটার রাস্তা দিয়েছে। রাস্তায় পায়খানার স্লাব তৈরী করে গাড়ী চলাচল বন্ধ করার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জায়গায় স্লাব তৈরী করেছি। আমি কি জায়গা ফেলে রাখবো, বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন,রাস্তা বন্ধের বিষয়টি জেনেছি। এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া আছে, তিনি বিষয়টি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিবেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত রাস্তাটি খুলে দিয়ে ভোগান্তি দূর করা হোক, অন্যথায় যেকোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।