
ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁয় কয়েলের আগুন থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সব হারানো পরিবারের পাশে সরকারি সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের মাখনা কমল গোটা গ্রামে গত শুক্রবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটেছে।
অগ্নিকাণ্ডে ৪টি ছাগল পুড়ে গেছে। ওই বাড়ির মালিক অসুস্থ্য দিনমজুর সাইদুর রহমানের শরীরের অনেক স্থানে আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া সাইদুর রহমানের স্ত্রী মোছা: মর্জিনাও আগুনে আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। অগ্নিকাণ্ডে ওই পরিবারের প্রায় ৩লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইদুর রহমানের ছেলে পলাশ।
পলাশ জানান তাদের বাড়িটি হচ্ছে বাঁশ ও বনের বেড়ার উপর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি। গতকাল শুক্রবার রাতে গোয়াল ঘরে কয়েল দেওয়া ছিলো। মধ্যরাতে পলাশের মা আগুনে বাঁশ পোড়ার শব্দ শুনতে পান। এরপর দেখতে পান তাদের বাড়ি আগুনে পুড়ছে। মুহূর্ত্বের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ঘরেও। এসময় তার অসুস্থ্য বাবাকে ঘর থেকে বের করার সময় শরীরের কয়েকটি স্থানে আগুনে পুড়ে যায়। সঙ্গে তার মায়ের কপালেও আগুন পড়লে পুড়ে যায়। এছাড়া গোয়াল ঘরে থাকা ৮-১০টি ছাগলের মধ্যে ৪টি ছাগল ও কয়েকটি বাচ্চা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আগুনে আহত হওয়া অন্যান্য ছাগলগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আগুনে তাদের দুটি ঘর, একটি রান্না ঘর ও একটি গোয়াল ঘর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে কয়েলের আগুন থেকে এমন অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনে সব হারিয়ে বর্তমানে তারা নি:স্ব। কিভাবে তাদের সংসার চলবে? কিভাবে তার বাবা ও মায়ের চিকিৎসার খরচ যোগার করবে এমন চিন্তায় দিশেহারা পলাশ। তাই তিনি সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন পলাশ।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: মাহবুবুর রহমান জানান স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যানের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্থ সাইদুরের বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে সরকারি সহায়তা হিসেবে ঘর মেরামতের জন্য ২বান্ডিল টিন ও খরচ হিসেবে নগদ ৬০০০ হাজার টাকা, ৪টি কম্বল, ২টি শুকনো খাবার প্যাকেট প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে আরো কোন সুযোগ আসলে ওই পরিবারকে প্রদান করা হবে। আগামীতেও সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরণের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।