
ডেস্ক রিপোর্টঃ
পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে চৈত্রসংক্রান্তি পালন করেছে নওগাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বরেন্দ্র অঞ্চলের জনপ্রিয় লোকগান বারোশিয়া গান পরিবেশন করা হয়।
বারোশিয়া গানের সাধক সংগীতশিল্পী আজিম উদ্দিন আহম্মেদের স্মরণে এ গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনারে আজ সোমবার বিকেল ৪টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আঞ্চলিক গানের গুরুত্ব, বারোশিয়া গানের পরিচিতি ও তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন, একুশে পরিষদ নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল মেহমুদ রাসেল। একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডিএম আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ বিএমসি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়ালিউল ইসলাম, বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত লোকগান কণ্ঠশিল্পী কাজী মন্টু, ফাতেমা বিলকিস বানু, একিশে পরিষদ নওগাঁর উপদেষ্টা মুকুল চন্দ্র কবিরাজ ও বিন আলী পিন্টু, একুশে পরিষদের সহ-সভাপতি গুলশান মনি প্রমুখ।
বারোশিয়া গান সম্পর্কে কণ্ঠশিল্পী সুলতান কাজী মন্টু বলেন, বারোশিয়া বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চল—রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও পাবনার একটি প্রাচীন ও জনপ্রিয় আঞ্চলিক লোকগান। এই গানগুলো মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ এবং প্রকৃতির কথা তুলে ধরে, যা এই অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই গানগুলোর বেশ কিছু গান এখন বেশ জনপ্রিয়। এ অঞ্চলের মানুষের এখনো গুন গুন করে এসব গান গেয়ে থাকে। তবে অনেকেই জানেন না যে, এই গানগুলোই বারোশিয়া গান। এ গানগুলোতে নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার টান এবং শব্দের ব্যবহার স্পষ্ট। এই গাবে সাধারণত বারো মাসে সংসারের সুখ-দুঃখের কথা থাকে।
ডিএম আব্দুল বারী বলেন, বারোশিয়া গান না ভাটিয়ালি, না ভাওইয়া-দুটোর মাঝামাঝি। বারোশিয়া গানের অন্যতম সাধক শিল্পী ছিলেন আজিম উদ্দিন আহম্মেদ। তিনিই মূলত বরেন্দ্র অঞ্চলে বারোশিয়া গানকে জনপ্রিয় করেছেন। মূলত লোকজ ধারার এই গানগুলো এখনো বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় এবং এই অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চৈত্র সংক্রান্তি দিনে আজকের এই আয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে রাজশাহী থেকে আগত কাজী মন্টু ও তাঁর দল এবং ফাতেমা বিলকিস বানু ও তাঁর দলের শিল্পীরা বারোশিয়া গান গেয়ে শোনান।
গানের আসরের শুরুতেই কাজী মন্টু ও ফাতেমা বিলকিস বানু দ্বৈত কণ্ঠে গেয়ে শোনান জনপ্রিয় বারোশিয়া গান, 'বাড়ির পাশে বেতের আড়া হাল জুইড়াছি বিহান বেলা রে--'। এরপর শিল্পীরা একে একে গেয়ে শোনান, 'ও মোর সওদাগর তোর সাথে আমি বাণীজ্যে যাব'; 'বন্ধু জাগাইয়ো না, কাচা ঘুমে জাগাইলে কথা বলব না'; 'হলুদেরি ফুল ফুটাইছি, গায়ে মাখাইছি'; 'চান ছোড়া বাজায় বাঁশিরে'সহ জনপ্রিয় সব বারোশিয়া গান।