
আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে সে জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। আদালত কতৃক নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে ওই গ্রামের মৃত তছিমুদ্দিনের পুত্র মো.বেদারুল ইসলাম বাদী এবং একই গ্রামের মৃত আবু তালেবের পুত্র আবু তাহের, মো.সাইদ, মো.জাহাঙ্গীর এবং মো.সাইদের পুত্র মো.রাজ্জাকের রিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় আদালত জেএল নং ২৪ সিএস খতিয়ান নং- ৪৪,আর এস খতিয়ান নং- ১৬৪,হাল দাগ নং-৮০৭ এবং ৮০৮ সম্পত্তিতে নালিশী সম্পত্তি থাকায় আদালত ফৌজদারি কার্যিবধি ১৪৪/১৪৫ ধারার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিদর্শনে দেখা গেছে,নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও গত ৪ নভেম্বর ২০২৫ বিবাদীপক্ষ আবু তাহের
গং-রা গোপনে নির্মাণসামগ্রী এনে উক্ত জায়গায় ঘর নির্মাণ শুরু করে।
এক পর্যায়ে বাদী বেদারুল ইসলাম ও তার পরিবার ঘর নির্মাণে বাধা দিতে গেলে বিবাদীপক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং বাদীপক্ষকে মারধর, লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলার হুমকি, এমনকি প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এবং প্রকাশ্যে ভাড়াটিয়া বাহিনী কর্তৃক স্থাপনা নির্মাণ করে। এতে বাদীপক্ষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।
বাদীপক্ষ বেদারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আদালতের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা জোর করে ঘর তুলছে। নিষেধ করায় আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে, হত্যার হুমকিও দিয়েছে। আমরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এমন জোরপূর্বক দখল ও নির্মাণ সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় দেখা যায়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাদীপক্ষ দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিষয়টি জানায় এবং বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা ও ভূমি অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি অভিযোগটি আমলে নিয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে তা অমান্য করে পুনোরায় কাজ করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তারা যদি পুনরায় কাজ শুরু করে অবশ্যই তাদের আইনের আওতাই নিয়ে আসা হবে বলেও জানান তিনি।