
পত্নীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় দিন দিন ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে মাদকের বিস্তার। মাদক যেন এক নীরব মহামারী—একটি ভয়ংকর ভাইরাসের মতো সমাজের শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ছে। যে বয়সে শিশু-কিশোরদের বই-খাতা হাতে স্কুলের বারান্দায় থাকার কথা, সেই বয়সেই কেউ কেউ মাদকের ছোবলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। জনগণ আশাবাদী ছিল—কঠোর অভিযান ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল হবে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী রাঘববোয়ালদের ছত্রছায়ায় মাদক কারবারিরা বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে পুনরায় ব্যবসা শুরু করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে উল্টো নানা ধরনের চাপ, প্রতিবাদ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
পত্নীতলা থানা থেকে আলপাকা শীতলমাঠ, নিরমইল ইউনিয়নের রাধানগরসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে প্রশাসন মাদকের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কারবারিরা কৌশলে স্থান ত্যাগ করে। ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক সময় কার্যকর অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে হালিমনগর, আলপাকা, উত্তরামপুর ও হলাকান্দর এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, কালোবাজারি, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আলপাকা বাজারের স্থায়ী দোকানদার আজিজুল ইসলাম ও জাকির হোসেন বলেন,
“আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু মাদক ও সন্ত্রাসের কারণে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত একটি পুলিশ ফাঁড়ি চালু না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।”
অন্যদিকে আলেম-ওলামা অ্যাসোসিয়েশনের শিহাড়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জাইদুর রহমান বলেন,
“সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কঠোরতা জরুরি। উত্তরামপুর-আলপাকা এলাকায় পূর্বে যে পুলিশ ফাঁড়ি ছিল, সেটি পুনরায় চালু করা এখন সময়ের দাবি। নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকলে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে ইনশাআল্লাহ।”
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা, আলেম-ওলামা ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সাধারণ জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই পারে পত্নীতলাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদে পরিণত করতে। এখন সময় এসেছে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) নিয়ামুল হক বলেন,
“আমার এখানে আসার প্রায় এক মাস দশ দিন হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আমি নিজেও অনেক অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছি। পুলিশ ফাঁড়ির বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করব। মাদকের বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খুবই সচেতন।”