
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
“আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দিন। আমি জানি না সে বেঁচে আছে না মারা গেছে। একজন মা হিসেবে এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।” বুকফাটা কান্না আর চোখের জলে এমন আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এক অসহায় মা।
নিখোঁজ ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী কন্যাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে রোববার (১৪ জুন) সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলার কয়া ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. নেসপাতি বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, তার মেয়ে নাছরিন আক্তার (১৩) কোলা বিজলী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৭ জুন সকালে প্রতিদিনের মতো কোচিং ও স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও আর ফিরে আসেনি।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় সূত্রে তারা জানতে পারেন, ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামের মগলের গোল পাকা রাস্তা এলাকা থেকে একটি সিএনজিযোগে নাছরিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান মিলছে না।
সংবাদ সম্মেলনে নেসপাতি বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত তার প্রতিবেশী রায়হান হোসেন (২৫)। এছাড়া বেলাল হোসেন (৫২), শিরিন আক্তার (৪৫) ও সুমন হোসেন (২৮) তাকে সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,মেয়ে হারানোর পর অভিযুক্তদের কাছে বারবার গিয়েছি। আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করেছি। কিন্তু তারা সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছে। প্রতিটি রাত আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো কাটছে। একজন মা হিসেবে আমি চরম অসহায় হয়ে পড়েছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর কয়েকদিন থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরে গত ১১ জুন বদলগাছী থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হলেও এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার কিংবা প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাননি।
নেসপাতি বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙলে মনে হয়, আজ হয়তো আমার মেয়ের খবর পাবো। কিন্তু দিন শেষে হতাশা ছাড়া কিছুই পাই না। আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে এর দায় কে নেবে?
তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসন ও বদলগাছী থানা পুলিশের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার নাবালিকা মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন। অপহরণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমিন বলেন,
ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।