
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই তরুণীসহ চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়া এলাকার মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), শিবপুর সরদারপাড়ার মমিনুর ইসলাম (২২), পোরশা উপজেলার সুতরইল এলাকার মোছা. সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯) এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার হালট্টি এলাকার রুমা খাতুন (২০)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সরদারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। তারা ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে ভুক্তভোগীদের ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর করে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত চক্রটি।
এ সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে দুই নারী ও দুই পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একই কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল বলেও জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। তরুণদের এ ধরনের হানিট্র্যাপ ও অনলাইন প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।"