
আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সরকারি কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, সংস্কারের উদ্যোগ না থাকা এবং নজরদারি দুর্বল হওয়ায় এসব সরকারি স্থাপনা এখন বেদখল ও অবৈধ ব্যবহারকারীদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ইউনিয়নের সরকারি কোয়ার্টার সংস্কার করা হয়েছে, বাকি সবগুলো ২০১৩ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের জেলা অফিসে তাগাদা দিলেও এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ আসেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে নির্মিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়ার্টার একসময় কৃষি কর্মকর্তাদের বসবাস, বীজ সংরক্ষণাগার ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে জানালা-দরজা ভেঙে নেওয়া হয়েছে, কোন কোয়ার্টার ভেঙ্গে অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, আবার কোথাও ভবনের ভেতরে গবাদিপশু রাখা হচ্ছে। আশপাশের সরকারি জমিও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘোষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজেদ বলেন, সরকারি এই জায়গাটি কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপণ করেছেন। এ বিষয়ে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, প্রশাসনও নীরব রয়েছে। এছাড়া সরকারি ভবনগুলোও সাধারণ মানুষ নিজেদের সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এসব অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি।
উদয়পুর গ্রামের কিসমত হায়াত বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থান না করায় কৃষকেরা সময়মতো কৃষি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ কার্যক্রম উপজেলা সদর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্য দিকে কৃষি কোয়ার্টার বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
মথুরাবাটি গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) কোয়ার্টার ভবন রয়েছে এ তথ্যই অনেক কৃষক জানেন না। এই ভবন থেকে কী ধরনের কৃষি সেবা পাওয়ার কথা, সে সম্পর্কেও আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। কোয়ার্টারগুলো সংস্কার করে সেখানে আবার নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম চালু করা হলে এলাকার কৃষকেরা সহজেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পেতে পারবেন।
উত্তরবিল গ্রামের কৃষক কাদের মোল্লা বলেন, কৃষি অফিস থেকে আমরা তেমন কোনো তথ্য বা পরামর্শ পাই না। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরও কখনো মাঠে দেখিনি। মনে হয়, তারা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখেন। ইউনিয়নের জরাজীর্ণ কোয়ার্টারগুলো সংস্কার বা প্রয়োজন হলে নতুন করে নির্মাণ করা উচিত। তাহলে কৃষকরা নির্দিষ্ট স্থান থেকে কিছুটা হলেও সেবা পাবে।
এ বিষয়ে কয়েকজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে সেখানে কোনো ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উপজেলা সদর থেকেই তাদের সব ধরনের সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অব্যবহৃত রেখে নষ্ট না করে দ্রুত সংস্কার ও পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বেদখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, বিষয়টি অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মান সংক্রান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা যাতে বেদখল না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বিষয়টি সমাধানে উপজেলা প্রশাসনে সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।