
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছিনতাই হওয়া জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা ফিরে পেয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হন এক পঙ্গু অটোরিকশাচালক। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন পুলিশ সুপারকে। এমন মানবিক ঘটনায় আবেগাপ্লুত হন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
জানা যায়, গত ১০ জুন সকালে নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা রামকৃষ্ণ সরকারের ছেলে রকিকে ডাবের পানির সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে অজ্ঞান করে পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয় একটি দুষ্কৃতকারী চক্র। পরদিন রামকৃষ্ণ সরকার বিষয়টি মোবাইল ফোনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে জানান।
খবর পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, ডাটা বিশ্লেষণ এবং নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যেই উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটি প্রকৃত মালিক রামকৃষ্ণ সরকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
অটোরিকশা ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন রামকৃষ্ণ সরকার ও তার পরিবার। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে তারা বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, সন্তান এবং উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাসহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান।
রামকৃষ্ণ সরকার দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি চলাফেরায় অক্ষম হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে ক্যাথেটার ব্যবহার করছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ভবনের ওপরে উঠতে না পারায় পুলিশ সুপার নিজেই নিচে নেমে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় রামকৃষ্ণের পরিবার ফুল দিয়ে পুলিশ সুপারকে শুভেচ্ছা জানায় এবং নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পুলিশ সুপারও পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা জেলা পুলিশের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে একই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে। এ সময় রামকৃষ্ণের বৃদ্ধ মা পুলিশ সুপারের মাথায় হাত রেখে তার এবং নওগাঁ জেলা পুলিশের জন্য দোয়া করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত সবার মধ্যে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্তের সৃষ্টি হয়।