
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ)
বর্ষার শেষ সময়ে জমি প্রস্তুত হলেও অনেক কৃষকের হাতে এখন আর কচি আমন চারা নেই। অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়া, পাট কাটা এবং আউশ ধান ঘরে তোলার পর নতুন করে আমন রোপণ শুরু হওয়ায় অনেক কৃষককে বাজার থেকে বেশি বয়সের চারা কিনতে হচ্ছে। এতে একদিকে চারার চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে বয়সী চারা রোপণে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন আমন চারার বেচাকেনা বেশ জমজমাট। জমির প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের চারা কিনছেন। বিশেষ করে পাট কাটা ও আউশ ধান কাটার পর ফাঁকা হওয়া জমিতে দ্রুত আমন রোপণের জন্য বাজারের চারার ওপর নির্ভর করছেন অনেক কৃষক।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বদলগাছীতে ১৪ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। বাকি জমিতেও আউশ ও পাট কাটার পর পর্যায়ক্রমে আমন রোপণ চলছে।
উপজেলার মকলেছুর,রশিদ,আতোয়ার, সোহেল সহ কৃষকদের ভাষ্য, সময়মতো জমি ফাঁকা না হওয়া এবং অতিবৃষ্টির কারণে এবার অনেকের আমন রোপণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তাই ভালো ফলনের আশায় একদিকে তারা বাজার থেকে চারা সংগ্রহ করছেন, অন্যদিকে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চারার বয়স ও মান যাচাই করে রোপণের চেষ্টা করছেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আমনের ভালো ফলনের জন্য সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ দিনের চারা রোপণ করা উত্তম। কিন্তু বীজতলা নষ্ট হওয়া কিংবা জমি দেরিতে ফাঁকা হওয়ার কারণে অনেক কৃষককে বেশি বয়সের চারা দিয়ে রোপণ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন বীজতলায় পড়ে থাকা অতিরিক্ত বয়সী চারা রোপণ করলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ অবস্থায় বেশি বয়সের চারা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের ‘দোগাছি চারা’ বা ডাবল ট্রান্সপ্লান্টিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান। স্থানীয়ভাবে এ পদ্ধতিকে ‘গাছি চারা’, ‘বলান’ বা ‘দু-গুছি’ নামেও ডাকা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, “২৫ থেকে ৩০ দিনের চারা রোপণ করা উত্তম। এতে ধানের ফলন ভালো হয়। তবে অনেক কৃষক আমন মৌসুমে বেশি বয়সের চারা রোপণ করেন। এতে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
তিনি আরও বলেন, বেশি বয়সের চারা রোপণের ক্ষেত্রে দোগাছি চারা পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকদের এ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলায় বর্তমানে ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১, বিনা-১৭, স্বর্ণা-৫, ধানী গোল্ড, চিনি আতব ও গোল্ডেন আতবসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ হচ্ছে। কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাত বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।