
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহার থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্বের অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নতুন ওসি থানায় যোগদান করলেও পুরোনো ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত থানার স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
থানায় এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সেবাপ্রার্থীরা। কেউ এসেছেন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে, কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য, আবার কেউ এসেছেন অন্যান্য আইনি সেবা নিতে। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে জটিলতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাঁদের।
থানা সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের এক আদেশে জনস্বার্থে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন ওসি শাহীন রেজা সাপাহার থানায় যোগদান করেছেন।
তবে নতুন ওসি যোগদানের পরও ওসি মিজানুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে থানার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ। ফলে থানার নেতৃত্ব ও দায়িত্বভার নিয়ে এক ধরনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার সকালে থানায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন কাজে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ।
সাপাহার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোকসেদুল ইসলাম বলেন, “সকাল ৯টা থেকে থানায় আছি। এখন দুপুর দেড়টা। ওসি না থাকায় আমার কাজ হচ্ছে না।”
পুরাতন মুহুরি পট্টি এলাকার শিক্ষার্থী জারিফ বলেন, “সকাল ১০টায় জিডি করার জন্য এসেছি। দুপুর ২টা পর্যন্ত বসে আছি। থানার অবস্থা থমথমে। পুরোনো ওসি নতুন ওসিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি—এটা কীভাবে হয়?”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরে তাঁর বক্তব্য নিতে সাপাহার থানায় গেলে ডিউটিরত দুই পুলিশ সদস্য জানান, ওসি মিজানুর রহমান ব্যস্ত আছেন এবং কাউকে তাঁর অফিসে যেতে নিষেধ করেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর মিজানুর রহমান থানার বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই গাড়িতে উঠে চলে যান।
দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে নতুন ওসি শাহীন রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “থানার চার্জ এখনও বুঝে পাইনি। আমি গতকাল থেকে থানায় আছি। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি থানার দায়িত্ব হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
সেবাপ্রার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নতুন ওসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হোক। একই সঙ্গে থানার নিয়মিত প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।