
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবুজার গাফফারী, নওগাঁ
জমিজমা বিরোধের জেরে বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট,গাছপালা কর্তন ও হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। প্রাণনাশের আশংকায় নিজ বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভুক্তভোগী নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মোস্তফা। এ বিষয়ে আজ শুক্রবার (১১সেক্টেম্বর) সকালে নওগাঁ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সস্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সস্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,পৈত্রিক ও সাব কবলাকৃত ১একর ৪৭ শতক জমি প্রায় ৪৫-৫০ বছর ধরে ভোগ-দখল করে আসছেন। প্রায় ৬-৭ বছর যাবত তার শরিকানরা(অংশীদার) ভোগ-দখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে শরিকানদের মধ্যে মহসিন আলী মন্ডল নামে একজন নওগাঁ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা করে। যা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক,জমিতে রোপণকৃত গাছ কেটে ফেলা ও আমাকে,আমার ছেলেদের মারপিট করেন মিলন মন্ডল,রাজু মন্ডল ,আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ থানায় পরপর দুটি মামলা করি। চলতি বছরের ২৬ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টর দিকে শরিকান মিলনের ছেলে মাসুদ আমাদের বসত-বাড়ি হতে প্রায় ৩কিলোমিটার দুরে পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার তিলকপুর বাজারে কে বা কারা হত্যা করে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাকে,আমার দু সন্তান,,জামাইসহ ৮জনকে আসামী করে আক্কেলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করে। ওইদিন আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।হত্যা চারদিন পর ৩১ মে একই এলাকার মৃত খোকন মন্ডল ছেলে মিলন মন্ডল (৫২) , আব্দুল রাজ্জাক মন্ডলের ছেলে মোঃ রাজু মন্ডল (৩০) ও মোঃ ওয়াজিদ মন্ডল (২৯) এবং মোঃ রব্বানী মন্ডল (২২), আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, মৃত কিনা মন্ডলের ছেলে মোঃ মহসিন মন্ডল (৫৫), জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার বাবনি গ্রামের ফজলুর ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম (৪৭), বগুড়া জেলার আদমদিঘি থানার ছাতিয়ান গ্রাম মিনিদিঘি এলাকার মিলনের ছেলে মোঃ সজিব (৩০), তিলকপুর এলাকার শ্রীধরপুর গ্রামের মহসিনের ছেলে মোঃ রুমÍম (৪৫), বাবলুর ছেলে মোঃ রাকিব হোসেন(৩৫), মিলন মন্ডলের স্ত্রী মোছাঃ রুমি (৪৫), মৃত ফজলুর মেয়ে মোছাঃ বিথী আক্তার (২৮), মহসিনের স্ত্রী মোছাঃ সামেনা বেগম (৫০), মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলের স্ত্রী মোছাঃ রহিমা বেগম (৫৫) মহসিনের মেয়ে মোছাঃ চুমকি বেগম(২৯)সহ আরো অনেকে সংঘবদ্ধ হয়ে আমার বাগানের ১১০ টি লিচুর গাছ ও ১৪৫টি মেহগনি গাছকেটে ফেলে বাথরুম ৩টি প্রাচীর ৫০ হাত, ৫ টি ঘর, ওয়াল টিভি ২ টি,স্বর্ণ ৩ ভরি,কুয়েত ডলার ৫০০ টি,চাউল ৩০ মন, বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র রাতে ও দিনে আমার বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং ২৫-৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।এব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা গ্রহণে আবেদন জানাচ্ছি।