
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
যে কলম একসময় বদলগাছীর মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা আর নানা অনিয়মের গল্প লিখত, সেই কলমটি থেমে গেছে প্রায় দুই বছর হলো। তবে কলম থামলেও মানুষটি যে একেবারে খবরের বাইরে চলে যাননি, তারই যেন নতুন প্রমাণ মিলল এবার।
প্রয়াত সাংবাদিক আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হুদা বাবুল। তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার বদলগাছী প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সভাপতি সানজাদ রয়েল সাগর ও সাধারণ সম্পাদক আবু জর গিফারীর হাতে ওই অর্থ তুলে দেন সংসদ সদস্য। পরে সেই টাকা পৌঁছে যায় প্রয়াত সাংবাদিক আবু সাঈদের স্ত্রী কামরুন নাহার (জয়নব) ও কনিষ্ঠ ছেলে সিজান সিদ্দিকের হাতে।
অর্থাৎ, সাংবাদিকের হাতে কলম, আর পরিবারের হাতে এবার সহায়তার টাকা—দুটিই যেন সংবাদপেশার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে গেল!
বদলগাছী উপজেলার চাংলা ডাঙ্গিরকুল এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ দুই যুগের বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন। কর্মজীবনে জাতীয় দৈনিক আজ ও আগামীকাল, দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকায় কাজ করেছেন।
২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। আকস্মিক এই মৃত্যুতে পরিবারটি হারায় তাদের অভিভাবক।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আবু সাঈদ এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও নানা ঘটনার খবর তুলে ধরেছেন সংবাদপত্রের পাতায়। কখনো মানুষের দুর্ভোগ খবর হয়েছে, কখনো সমস্যার খবর হয়েছে, আবার কখনো সেই খবরই হয়েছে সংশ্লিষ্টদের জন্য অস্বস্তির কারণ।
জীবদ্দশায় যিনি অন্যের সমস্যা নিয়ে খবর করতেন, মৃত্যুর পর তাঁর নিজের পরিবারের কঠিন সময়টিও এখন খবর হয়ে এলো—এ যেন সাংবাদিক জীবনের এক অদ্ভুত পরিহাস!
আবু সাঈদের মৃত্যুর পর সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হুদা বাবুল তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেন। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসেরই বাস্তব রূপ হিসেবে দেওয়া হলো এক লাখ টাকা।
সহকর্মীদের কাছে আবু সাঈদ ছিলেন দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা। তাঁর মৃত্যুতে বদলগাছীর সাংবাদিকতায় তৈরি হয়েছে একটি শূন্যতা। তবে তাঁর লেখা, সংবাদকর্মী হিসেবে তাঁর পথচলা এবং মানুষের কথা তুলে ধরার স্মৃতি এখনো সহকর্মীদের মনে রয়ে গেছে।
একসময় তাঁর কলমে অন্যের কষ্টের খবর ছাপা হতো। আজ তাঁর পরিবারের কষ্টের গল্পও ছাপা হলো। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার খবরের শিরোনামে তাঁর কলম নেই, আছে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর গল্প।