
মান্দা(নওগাঁ)প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় অবস্থিত ৫ শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পর পর দান বাক্সগুলো খোলা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টার সময় ১ টি বড় ও ১৪ টি ছোট দানবাক্স থেকে ১৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৩৪ টাকা পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও ২টি সোনার নাকফুল,১টি রুপার নূপুর, ১ টি রুপার লকেট।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কুসুম্বা শাহী মসজিদ কমিটির সভাপতি মোছাঃ আতিয়া খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এবার আমরা ৩ মাস পর দানবক্স খুলেছি। এবার দানবক্সে ১৩ লক্ষ্য ৪৩ হাজার ২৩৪ টাকা পাওয়া গেছে।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাবিল নওরোজ বৈশাখ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও কুসুম্বা শাহী মসজিদ এর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর উপসহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, কুসুম্বা শাহী মসজিদের দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এখানে মানত করতে আসে তাদের দেওয়া দানের যে টাকা পাওয়া যায় সে টাকা দিয়ে মসজিদ ক্যাম্পাসের অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়েছে যেমন- মহিলাদের উন্মুক্ত নামাজ ঘর, তাবারক তৈরি রান্নাঘর সংস্কার, পরিচ্ছন্ন কসাইখানা তৈরি, দর্শনার্থীদের জন্য বসার সুব্যবস্থা, ক্যাম্পাসের ভেতরে পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও মসজিদের পাশেই ইসলামিক লাইব্রেরী ও কালচারাল রিসার্চ সেন্টারের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সেখানে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে দর্শনার্থীরা কুসুম্বা শাহী মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ সম্পর্কে জানতে পারবে।
কুসুম্বা শাহী মসজিদে আগত দর্শনার্থী বাড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি বলেন- দর্শনার্থী বাড়ার ক্ষেত্রে প্রথম দরকার নিরাপত্তা। আর এই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুরো মসজিদ ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে আগত দর্শনার্থী নির্বিঘ্নে তাদের মনের মত করে নামাজ কালাম ও মানতের কাজকর্ম করে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে।