
মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মান্দা
নওগাঁর মান্দায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার স্বামী ও সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ সীমা বেগম (৩৮) বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের শীলগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূর স্বামী জাকারিয়া (৪১) বর্তমানে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন—শীলগ্রাম এলাকার শরিয়তুল্যা মন্ডল (৪২), মছের আলী মন্ডল (৬৫), শাহিদা বেগম (৪৮) ও মিনা বেগম (৩০)।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শরিয়তুল্যা মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূ সীমা বেগমকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে শরিয়তুল্যা মন্ডল ঘরে প্রবেশ করে তাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় গৃহবধূর ডাক-চিৎকার শুনে বাজার থেকে তার স্বামী জাকারিয়া ও ছেলে আবু সিয়াম (১৯) বাড়িতে ছুটে আসেন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাঠি, ধারালো হাসুয়া ও হাতুড়ি নিয়ে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় শরিয়তুল্যা মন্ডল ধারালো হাসুয়া দিয়ে জাকারিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। একই সময় অন্য অভিযুক্তরা জাকারিয়ার ছেলে আবু সিয়ামকে লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় গৃহবধূ সীমা বেগমকেও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত জাকারিয়াকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আবু সিয়ামও চিকিৎসা নিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সীমা বেগম বলেন, ঘটনার পর স্বামীর চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে বাধা দেওয়ায় তার স্বামী ও সন্তানকে হামলা করে আহত করার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মান্দা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।