
মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মান্দা
নওগাঁর মান্দায় শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত শিল্পীরা,সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মহাপূজাকে সামনে রেখে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। ইতোমধ্যে কাদা-মাটির প্রাথমিক কাজ শেষ করে শিল্পীদের নিখুঁত তুলির আঁচড়ে একেকটি প্রতিমা যেন পেয়ে উঠছে জীবন্ত রূপ।
তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও প্রতিমা তৈরির ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কারিগররা। উপজেলার এক প্রতিমা শিল্পীর সাথে কথা বললে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে জানান, বর্তমানে বাঁশ, খড়, মাটি ও রঙের দর আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে আগের মতো আর লাভ থাকে না। তবে বংশপরম্পরায় বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে রাখা এবং ধর্মীয় অনুভূতির টানেই লাভ-ক্ষতির হিসাব ভুলে এই কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মান্দা উপজেলার ১২৬ টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আয়োজন সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত প্রশাসন ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট।
সার্বিক সুরক্ষার বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোসাঃ আতিয়া খাতুন বলেন, "আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ১২৬টি মণ্ডপেই সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে প্রশাসন।"
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফজাল হোসেন জানান, পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রতিটি মণ্ডপে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন।
উপজেলার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পূজা উদযাপন ফন্টের নেতৃবৃন্দ। মান্দা উপজেলা পূজা উদযাপন ফন্টের সিনিয়র যুগ্নু আহ্বায়ক মলয় কুমার ঘোষ বলেন, "মান্দার পূজা মণ্ডপগুলোতে অতীতেও যেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, এবারও অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে শুরু থেকেই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।"