
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নিয়ামতপুর উপজেলার বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ল কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) চলতি আমন ধানে সেচ কাজের জন্য ডিলারদের নিকট প্রায় অর্ধকোটি টাকার ভ’গর্ভস্থ পানি বিক্রি করেছে। আজ সোমবার একই দিনে এ পরিমান টাকার পানি বিক্রির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএমডিএ নিয়ামতপুর জোনের কোষাধ্যক্ষ মাহবুব রহমান। এ দিন নিয়ামতপুর বিএমডিএ ভ’গর্ভস্থ পানি বিক্রি করেছে ৪২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকার।
জানা যায়, খরা মোকাবেলায় সেচ কাজের জন্য উপজেলায় চালু রয়েছে ৬০৩ টি গভীর নলক’প। উপজেলায় এবার ৩০ হাজার ৪শ ৪০ হেঃক্টর জমিতে আমনের চাষ হলেও গভীর নলক’পের আওতায় আমনের চাষ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯শ ৫ হেক্টর জমিতে। অনাবৃষ্টির কারনে এসকল জমিতে সেচ দিতে প্রতি ঘন্টায় গভীর নলক’পের মাধ্যমে ভ’গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে হাজার হাজার কিউসেক। ফলে ভ’গর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। বিকল হয়ে পড়ছে এ এলাকার হ্যন্ড টিউবয়েল। অভিযোগ রয়েছে অনেক ডিপ টিউবয়েলে পানিও উঠছেনা ঠিকমত।
বিএমডিএ’র ভ’গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের বিষয়ে কয়েকজন মন্তব্য করেন, যে ভাবে সেচের জন্য ভ’গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, এমনটা চলতে থাকলে অচিরেই বরেন্দ্র অঞ্চলে ভ’গর্ভস্থ পানির সংকট সৃষ্টি হবে।
সরেজমিনে বিএমডিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ভেন্ডিং ডিলার পানি ক্রয়ের পে—অর্ডার নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাদের কারো কারো হাতে দেখা গেলা ৫০ হাজার টাকার আবার কারো হাতে ১লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকার বিএমডিএর অনূকুলে রূপালী বাংকের পে—অর্ডার। এভাবেই ডিলাররা ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পে—অর্ডারের মাধ্যমে বিএমডিএ অফিসে এসে ভেন্ডিং মেশিনে (প্রি—পেইড মিটারের কার্ড রিচার্জ মেশিন) নিয়ে যান টাকা। যা কৃষকের কাছে সেচ কাজে বিক্রি করা হবে। এভাবেই বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ কৃষকের নিকট প্রতিদিন ভ’গর্ভস্থ পানি বিক্রি করছে লক্ষ লক্ষ টাকার।