
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো একসময় উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তবে শহীদ মিনারটি পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে, নাকি আগে থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় ভেঙে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের মুদি দোকানি সেকেন্দার আলী (৫৫) পানি নিতে বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শহীদ মিনারটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন থানা-পুলিশকে খবর দেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ২০১৬ সালে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের জায়গায় রাস্তার পাশে নির্মিত আটটি আধাপাকা দোকানের একজন ভাড়াটিয়া দোকানদার মো. সাগর হোসেন (৫৫), পিতা মৃত শামসুল হক, নিজ অর্থায়নে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে দেন।
স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার লোকজনও ফুটবল ও ক্রিকেট খেলেন। ইট দিয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটির ভেতরে রড ছিল না বলে তাঁদের দাবি। এর আগে একটি স্তম্ভে ফাটল দেখা দিয়েছিল এবং সেটি আংশিক ভাঙা অবস্থায় ছিল বলেও জানান তাঁরা। এ কারণে স্থাপনাটি দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে কেউ কেউ এটিকে ভাঙচুরের ঘটনাও হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শুক্লা রানী জানান, শহীদ মিনার ভাঙা অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে আসেন। তাঁর ভাষ্য, শহীদ মিনারটি আগে থেকেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। বিভিন্ন জাতীয় দিবসসহ নানা কর্মসূচিতে সবাই মিলে সেখানে অংশ নিতেন।
বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীর রাতের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালনে শিথিলতা আনা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা রাতে দায়িত্ব পালন করেন না।
বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।