
বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও বক্তৃতার দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে নওগাঁয় বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি রাজা হরনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁর আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজা হরনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ মহসিনুল হক, একুশে পরিষদ নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এম এম রাসেল এবং রাজা হরনাথ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর আলী শেখ। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন সানজিদা ইসলাম সাবিথা, নওসীম কর্ণ ও জন্মাতুন ফেরদৌস।
বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল বাংলাদেশের কুষ্টিয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ছিলেন। ১৮৮৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তাঁর জন্ম। তিনি ১৯০৩ সালে রাজা হরনাথ উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এন্ট্রান্স পাশ করেছিলেন এই মনীষী। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের যুদ্ধকালীন নেতাদের বিচারের জন্য গঠিত টোকিও আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনালে ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
টোকিও ট্রাইব্যুনালে ১১টি দেশের বিচারকেরা দায়িত্ব পালন করেন। ওই বিচারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন রাধাবিনোদ পাল। তাঁর দীর্ঘ ভিন্নমতামতে অভিযুক্ত জাপানি নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করার বিরোধিতা করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন, ঔপনিবেশিক শাসন এবং বিজয়ী পক্ষের হাতে পরিচালিত বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে তাঁর এই মতামত পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়।
অনুষ্ঠানে বিচারক মহসিনুল হক বলেন, বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের জীবন ও কর্ম দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য। তাঁর বিচারিক দর্শন নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও টোকিও ট্রাইব্যুনালে দেওয়া তাঁর ভিন্নমত আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তৃতা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের জীবন, কর্ম ও বিচারিক দর্শন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বক্তৃতার মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা ও যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছে তারা। বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের মতো মনীষীদের নিয়ে এ ধরনের বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার।