
রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়ামতপুর
সারাদেশে গতকাল এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার বিগত বছরের তুলনায় ফলাফল হতাশাজনক । কমেছে পাসের হার ও জিপিএ—৫ এর সংখ্যা। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায়ও এর বত্যয় হয়নি। উপজেলার আটটি কলেজের মধ্যে দুটি কলেজের পাশ করেনি কেউ। আর ছয়টি কলেজে পাসের চেয়ে ফেলের হার বেশি।
আটটি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, উপজেলায় এবার এইচএসসিতে পাসের হার ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এবছর জিপিএ—৫ পেয়েছে নয় জন। যা গতবছর ছিল ২৭ জন। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৪৪৫ জন। ফেল করেছে ৭৫৩ জন।
ফলাফলে দেখা গেছে, উপজেলায় আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে সাংশৈল আদিবাসী স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। গতবছরও এই কলেজ থেকে শতভাগ ফেল করেছিল।এছাড়া রাজাপুর বটতলী হাট মহাবিদ্যালয়ের আটজন পরীক্ষার্থী পরক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে সবাই।
অন্যদিকে গাংগোর স্কুল এন্ড কলেজের পাঁচ জন পরীক্ষার্থীর চার জনই ফেল করেছে। নিয়মতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৪২ জন পরীক্ষার্থীর ৩১ জন ফেল করেছে। বামইন স্কুল ও কলেজের ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৫৬ জন। বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রী কলেজে ১৪৩ জনের মধ্যে ৯৫ জন ফেল। চন্দননগর কলেজে ১৩৪ জনের মধ্যে ফেল করেছে ৮২ জন।
উপজেলায় একমাত্র সরকারি কলেজ নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৯৫ জন, এরমধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭১ জন। পাস করেছে ৩০৯ জন আর ফেল করেছে ৪৬২ জন।
কলেজটির বাণিজ্য বিভাগে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জনই ফেল করেছে। মানবিক বিভাগে ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৪ জন ফেল। আর বিজ্ঞান বিভাগে ২৭৪ পরীক্ষার্থীর ১০৪ জন ফেল।
তবে উপজেলায় পাসের হার ও জিপিএ—৫ এ এগিয়ে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। কলেজটিতে পাসের হার ৪০ দশমিক ০৮ শতাংশ। জিপিএ—৫ পেয়েছেন ছয় জন।
নিয়ামতপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলী বলেন, 'কলেজে তিনটি বিভাগের মধ্যে বাণিজ্য বিভাগের ফলাফল খারাপ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসবিমুখ হয়েছে। স্মার্টফোনেরও প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে ভালো ফলাফল করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ।
রাজাপুর বটতলীহাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ তারেক মাহমুদ বলেন, ' আমার প্রতিষ্ঠান নন এমপিওভুক্ত। এজন্য শিক্ষক সংকট রয়েছে। এই সংকট নিয়েই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ পাঠদান করা হয়।'
এছাড়াও তিনি বলেন, কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ২৭ বছর হলেও এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষকের বেতন নাই। তাই শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় কলেজটি অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার প্রবণতাও কম। অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার অভাবও রয়েছে। সব মিলিয়ে ফলাফল খারাপ হয়েছে মনে করেন তিনি। আশা করছি সামনে বছর ফলাফল ভালো হবে।