
বরেন্দ্রকণ্ঠ ডেস্ক
নওগাঁর পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ এবার কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীন এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১০ পরীক্ষার্থী। কলেজটিতে শিক্ষক আছেন ১৭ জন। তবে ওই ১০ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি।
শুধু পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ নয় এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর আরও ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে পত্নীতলা টেকনিক্যাল কলেজের মতো এমপিওভুক্ত হয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, কিন্তু একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এমন আরও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গতকাল শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র বেরিয়ে এসেছে। নওগাঁর যে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি সেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাহারুল উমুল আলিম মাদ্রাসা ও আরিফ মেমোরিয়াল কলেজ, পোরশার মেদা হযরত আশা সিদ্দীকা (রা.) আলিম মাদ্রাসা, নিয়ামতপুরের রাজাপুর বটতলী হাট কলেজ ও সাংশৈল আদিবাসী স্কুল এন্ড কলেজ, রাণীনগরের বড়খোল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, ধামইরহাটের শহীদ আব্দুল জব্বার মঙ্গলবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, পত্নীতলার পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, মান্দার শ্যাম চাঁদ মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ও ঘোনা আদর্শ হাইস্কুল এন্ড কলেজ এবং আত্রাই উপজেলার সোনাইডাঙ্গা মহিলা বি এম এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ।
একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি নওগাঁর এমন ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমপিওভুক্ত হয়ে শিক্ষক কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন- এমন দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো, পত্নীতলা উপজেলার পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ এবং মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা।
ওই দুটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটিতে বর্তমানে ১৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের একজন উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
স্থানীয় যুবক আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারের কোষাগার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে মাসে বেতন-ভাতা নিয়মিত পান। তারপরেও ১৭ শিক্ষকের একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক কিংবা শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই অনিয়মিত। বেশিরভাগই পড়াশোনার পাশাপাশি কারখানা কিংবা দোকানে কাজ করে। এদেরকে ধরে ধরে এনে ক্লাস করাতে হয়। এ কারণে এখানকার ফলাফল এতো খারাপ।’
এমপিওভুক্ত আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার এ বছরের আলিম পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০১২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এবার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৬ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এদের সবাই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সংখ্যা ২৪ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন ছয়জন।