
নওগাঁর মান্দা উপজেলা চত্বরের রাস্তা পাকাকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন নিম্নমানের কাজ হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সেবা নিতে আসা হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করলেও কাজের মান নিয়ে কেউ যেন দায় নিতে চাইছে না—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই যদি এভাবে কাজ হয়, তাহলে অন্য এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের কাজ করে—তা সহজেই অনুমেয়। এ নিয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মাত্র পাঁচদিন আগে কার্পেটিং করা হলেও সপ্তাহ না যেতেই হাতের টানে ও পায়ের ঘষায় উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং। কোথাও রেজিংয়ের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, কোথাও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব কম, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় রোলিং ছাড়াই কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে কাজটি সম্পাদনের নির্দেশ পান ঠিকাদার তানজিমুল ইসলাম। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭০১ টাকা। অথচ কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও রাস্তার রেজিং খুলে পড়েছে, কোথাও দেবে গেছে রাস্তা, আবার কোথাও পুরোপুরি উঠে গেছে কার্পেটিং। এমন চিত্র দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশাও লক্ষ্য করা গেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তানজিমুল ইসলাম বলেন,
“কাজ করতে গিয়ে অনেক লস হয়েছে। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।”
কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অনিয়মের সত্যতা আংশিকভাবে স্বীকার করে বলেন, কাজটি দেখভালের জন্য চারজন কার্যসহকারী ছিলেন। আমি নিজেও পয়েন্টে ছিলাম। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, সেগুলো ঠিক করে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ জানান- “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করা হবে। কাজ সম্পূর্ণ ও মানসম্মত না হলে বিল দেওয়া হবে না।”
এদিকে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।