
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাতুন হাওয়ার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জান্নাত ট্রের্ডাসকে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাতুন হাওয়ার নামে এক কর্মীকে টাকার বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গত রবিবার এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত যোগ্যতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং সকল আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সমান ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। সার কৃষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কৃষি উপকরণ। তাই সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব সক্ষমতা, কৃষকের কাছে সহজলভ্যতা এবং সরকারি নীতিমালার কঠোর অনুসরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম, তথ্য গোপন, অসঙ্গতি, পক্ষপাতিত্ব বা বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব এলাকার সাধারণ কৃষকদের ওপর পড়তে পারে। মেসার্স জান্নাত ট্রেডার্সের সার ডিলার নিয়োগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, আবেদনপত্র, দাখিলকৃত কাগজপত্র, যোগ্যতা, বয়স ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য, ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং প্রযোজ্য সরকারি নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি নিরপেক্ষ ও যথাযথভাবে পুনঃতদন্ত করা হোক। পুনঃতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনবোধে উক্ত ডিলারশিপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হোক।
অভিযোগকারী কৃষকদের দাবি, নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেত্রী ছিলেন জান্নাতুন হাওয়া। তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একজন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও ষাটোর্ধ বয়সী নারী কিভাবে সার ডিলার নিয়োগ পায়। সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি উৎপাদনের জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন।
কৃষকদের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ এর আলোকেই যাচাই-বাছাই করে প্রতি ইউনিয়নে তিন জনের নাম জেলায় পাঠানো হয়েছে। জেলা কমিটির সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তারা সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন। জেলা কমিটি তাদের ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।
নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মুর্শিদা খাতুন বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালার আলোকেই যাচাই-বাছাই করে প্রতি ইউনিয়নে তিন জনের নাম জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে জেলা কমিটি চাইলে তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করতে পারত।
নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।