
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় খাবারে বিষক্রিয়ায় একটি মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের পর্যায়ক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের বয়স ৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারা সবাই হেফজ, কুতুবখানা ও পাঠাগার বিভাগের শিক্ষার্থী।
উপজেলার মিনাবাজার এলাকায় অবস্থিত আল-জামিয়া-আল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ (পোরশা বড় মাদরাসা) মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রসাটিতে ১ হাজার ৬০০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা ঘুমাতে যান। মধ্য রাত থেকে কিছু শিক্ষার্থী পেটে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করে। পরে তাদের বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার রাতেই ২০ জন শিক্ষার্থীকে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৪৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার পর বুধবার ১০ দিনের জন্য মাদরাসা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের ভাতের সঙ্গে সবজি, মাছের তরকারি ও ডাল খেতে দেওয়া হয়। একই খাবার মাদ্রাসার আবাসিক ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা খেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে ডাল অথবা তরকারিতে কোনোভাবে বিষক্রিয়া হয়েছে। খাবার খাওয়ার পর থেকে অনেক শিক্ষার্থীই অসুস্থ হয়েছেন। তবে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনার পর বুধবার দুপুরে মাদরাসা ১০ দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজির আহম্মেদ বলেন, ‘খাবার খাওয়ার কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তা ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার লক্ষণ একই রকম ছিল। ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’
খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।