
নজিপুর ইউনিয়নের উজিরপুর মিশন ব্রিজ থেকে ফয়েমপুর তেমাথা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের পাশে সরকারি বাগানের গাছ কেটে পাচার করার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বন বিভাগ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও নজিপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে রেজাউল করিম মন্টু (৫৩) এবং একই গ্রামের গয়েশ চৌধুরীর ছেলে মোজাফফর চৌধুরী (৪৭)। সে ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন।
উপজেলা বন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে পত্নীতলা থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে নজিপুর ইউনিয়নের উজিরপুর মিশন ব্রিজ থেকে ফয়েমপুর তেমাথা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের পাশে সৃষ্ট সরকারি বাগানের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে।
সংবাদ পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পান ৪-৫ জন ব্যক্তি গাছ কেটে টুকরো করছে। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে রেজাউল করিম মন্টু ও মোজাফফর চৌধুরীকে আটক করা হয়, তবে বাকিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৪ টুকরা আকাশমনি কাঠ (৯.১০ ঘনফুট) জব্দ করা হয়। এতে কাঠের আর্থিক ক্ষতি ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯২০ টাকা এবং পরিবেশগত ক্ষতি ৫০ হাজার টাকা। সর্বমোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ হাজার ৯২০ টাকা।
এ ঘটনায় ১৯২৭ সালের বন আইন (সংশোধিত ২০০০) এর ৩৩(১)(ছ) ধারায় পত্নীতলা থানায় মামলা (নম্বর-০৯, তারিখ-২১.০৮.২৫) দায়ের করা হয়। আটক দুজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পত্নীতলা থানার ওসি শাহ মো. এনায়েতুর রহমান।
অন্যদিকে, মোজাফফর চৌধুরীর পরিবার দাবি করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাঠ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিক্রেতার বাড়ির পাশে পড়ে থাকা গাছের ডালপালা কিনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নন।