
পাবনা সংবাদদাতা
সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক আমার দেশ ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারীর একটি ভিডিও বক্তব্যের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক বলেও জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বিস্তার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে পাবনা শহরের খেয়াঘাট পাড়া এলাকার ‘খন্দকার টাওয়ার’-এ জহুরুল ইসলামের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে জহুরুল ইসলাম তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সারাদিন ধরে থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও অবশেষে রাত ১২টার দিকে একটি লিখিত এজাহারে তাঁর স্বাক্ষর রেখে তাঁকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জহুরুল ইসলাম নিজেকে কখনো স্থানীয় সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের শ্যালক, আবার কখনো পিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) পরিচয়ে ভয়ভীতি ও প্রভাব প্রদর্শন করতেন। তাঁর এমন পরিচয়ের দাপটে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ তটস্থ থাকতেন। এমপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টিআর ও কাবিখার চাল কালোবাজারে বিক্রি করে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অসৎ উপায়ে উপার্জিত এই অর্থ দিয়ে তিনি পাবনা ও ঢাকায় ফ্ল্যাট, জমি এবং গাড়ি করেছেন।
অভিযোগে আরও প্রকাশ, অভিযুক্ত জহুরুলের ওই ফ্ল্যাটে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের আসর বসত। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি অসহায় নারী ও দলের কর্মী-সমর্থকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্লাব সভাপতি আক্তারুজ্জামান আখতার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জহুরুলের বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করে আসছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এমনটা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।