
শাহজাদপুর থেকে সর্দার রঞ্জিত :
বাংলার নদীমাতৃক ভূখণ্ডে নদী কেবলই একটি জলধারা নয়, এটি জীবন, জীবিকা ও যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ । কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনেক নদীই আজ তার পুরোনো রূপ হারিয়েছে । তেমনি একটি নদী বড়াল। এক সময় এ নদীর বুক চিরে চলতো নৌযান, আজ সেই নদীর বুকে দুলছে সবুজ ফসলের ক্ষেত । বড়াল নদীর ওপর নির্মিত বাঘাবাড়ী সেতু যেন আজ সেই পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী ।
সিরাজগঞ্জ গো-খামাড় খ্যাত বাঘাবাড়ী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করতে ১৯৮০ দশকে বড়াল নদীর ওপর নির্মিত হয়েছিল এ সেতু । তখন বড়াল ছিল গভীর ও প্রশস্ত । বড় বড় ঢেউ পাড়ি দিয়ে নৌযান চলাচল করত নিয়মিত, আর এ নদী পথ ছিল মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। কোথাও নদী প্রায় ভরাট হয়ে গেছে ।
বর্তমানে বাঘাবাড়ী সেতুর নিচে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য । যেখানে আগে ছিল প্রবাহমান জল, সেখানে এখন বিস্তীর্ন সবুজ জমি । কৃষকেরা সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছে, দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন, এটি একটি উর্বর কৃষি জমি, নদীর অস্তিত্বই যেন হারিয়ে গেছে ।
এ পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়ছে দারুন প্রভাব । বিশেষ করে বাঘাবাড়ী নদীর নদী বন্দর এখন হুমকির মুখে । এ বন্দর দিয়ে উত্তরবঙ্গে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় । কিন্তু নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় তেলবাহী নৌযানগুলো আর সহজে বন্দর ভিড়তে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বন্দরটির কার্যক্রম ।
বিশ্বব্যাঙ্কের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ভ: গোলাম আহমেদ বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন পরিকল্পিত নদী খনন ও শাসন কার্যক্রম ।
পাশাপাশি নদীর তীর দখল ও ভরাট বন্ধ করতে হবে । তবেই বড়াল নদী আবার তার প্রান ফিরে পেতে পারে।
বাঘাবাড়ী সেতুর নিচে সবুজ ফসলের দোলা যেমন একদিকে কৃষকের আশার প্রতীক, তেমনি অন্যদিকে এটি আমাদের নদী হারানোর এক নীরব সঙ্কেত ।
সময় থাকতে বড়াল নদীকে বাঁচাতে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে হয়তো ইতিহাসের পাতায় কেবল সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে এ নদী।