
নাজমুল হক সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ রোডের ব্যস্ত সড়কে প্রায়ই দেখা মেলে আবদুল্লাহ মুন্সির (৪২)। কাঁধে গামছার বোঝা, মুখে ক্লান্তির ছাপ-তবুও জীবনের লড়াই থেমে নেই তাঁর । রোদ হোক কিংবা বৃষ্টি, প্রতিদিনই তিনি বেরিয়ে পড়েন গামছা বিক্রি করতে।
আবদুল্লাহর মুন্সির বাড়ি জেলার সলঙ্গা থানার পাঁচলা গ্রামে। পিতা আলীম মুন্সি । ছোট্ট একটি পরিবার নিয়ে তাঁর সংসার । বিবি ও সন্তানসহ ছয় মুখের পরিবারের ভরন- পোষণের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে । সে দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিদিন ভোরে গামছার বোঝা কাঁধে নিয়ে তিনি বের হন জীবিকার সন্ধানে ।
সিরাজগঞ্জ রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে গামছা বিক্রি করেন আবদুল্লাহ। কখনো বাসস্ট্যান্ডে, কখনো বাজারে কিংবা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকেন। প্রতিদিনের আয় খুব বেশি নয়। পাঁচ/ সাত'শ টাকা। আবার কোনদিন তারও কম। তবুও সে আয় দিয়েই চলে পুরো সংসার ।
তিনি বলেন, "রোদ বৃষ্টি যা- ই হোক, বের হতে হয় । না বের হলে সংসার চলবে না। এ গামছা বিক্রি করেই সংসার চলে।"
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গামছা এখনো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয় । সে প্রয়োজনকে ঘিরেই আবদুল্লাহর মতো অনেকেই ফেরিওয়ালার পেশায় যুক্ত । তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ পেশা এখন আগের মতো লাভজনক নয় বলে জানান তিনি।
তারপরও থেমে নেই আবদুল্লাহ মুন্সির জীবন সংগ্রাম । প্রতিদিনের ক্লান্তি, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি হেঁটে চলেন ক্রেতার খোঁজে । পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে তার এ নিরলস পরিশ্রম যেন এক নীরব সংগ্রামের গল্প ।
সিরাজগঞ্জ রোড দিয়ে যাতায়াতকারী অনেকেই প্রায়ই দেখতে পান- কাঁধে গামছার বোঝা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আবদুল্লাহ। তিনি যেন গ্রামবাংলার অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ।