
নাজমুল হক সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ শহরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ইলিয়ট ব্রিজ যেন ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী । সময়ের স্রোত বয়ে গেছে, বদলেছে নগর জীবন, নদীর ধারা আর মানুষের জীবনযাত্রা- কিন্তু এক শতাব্দীরও বেশী পুরোনো এ ব্রিজ আজও অতীতের স্মৃতি বহন কর মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
বৃটিশ শাসনামলে ১৮৯২ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে নির্মিত হয় এ ঐতিহাসিক ব্রিজটি। সে সময় বাংলার লাট ছিলেন স্যার আলফেরেড ইলিয়ট । তাঁর নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয় ইলিয়ট ব্রিজ । বড় পুল হিসেবেও পরিচিত । তত্কালীন প্রকৌশল দক্ষতা ও নির্মান শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন এ ব্রিজ আজও মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।
ইলিয়ট ব্রিজের দৈর্ঘ ১৮০ ফুট, প্রস্থ ১৬ ফুট, উচ্চতা ৩০ ফুট। পুরো ব্রিজটি লাল রঙে রাঙায়িত । বিস্ময়কর বিষয় হল- এ ব্রিজটি মাঝখানের পিলার ছাড়াই নির্মিত । সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে কাঁটাখালি নদী । ঐ সময়ের প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা ও নান্দনিকতার এক অনন্য উদাহরণ এ ব্রিজ আজও বিস্ময় জাগায় ।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানাযায়, ইলিয়ট ব্রিজ নির্মানে সে সময় ব্যয় হয় ৪৫ হাজার টাকা। জনসাধারণের চলাচল সহজ এবং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতেই এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল ।
সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলে গেছে । কিন্তু ইলিয়ট ব্রিজ এখনও টিকে আছে সিরাজগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে । প্রতিদিন অগণিত মানুষ এ ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন, অথচ অনেকেই জানেন না- তারা হেঁটে যাচ্ছেন শতবর্ষী এক ইতিহাসের ওপর দিয়ে ।
এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। কারন ইলিয়ট ব্রিজ শুধু একটি ব্রিজ নয়, এটি সিরাজগঞ্জের অতীত, ঐতিহ্য ও স্থাপত্য দক্ষতা এবং সময়ের স্মৃতিকে ধারন করে থাকা এক অমূল্য সম্পদ ।