
নাজমুল হক সিরাজগঞ্জ:
কারাগারের বন্দী জীবন- নি:সন্দেহে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। চারদেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ দিনযাপন, নিজের ইচ্ছামত চলাফেরা বা প্রিয়জনদের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা- সবমিলিয়ে এক বিষন্ন বাস্তবতা শেখায়। সেই সত্যের এক মানবিক প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলো সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে, ঈদের দিন।
ঈদের সকালটি যেন অন্য দিনের চেয়ে আলাদা ছিল। কারাগারে নির্জীব পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছিল উত্সবের রঙ। বন্দীদের মুখে ফুটে উঠেছিল ক্ষণিকের হাসি, চোখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। দিনটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে বন্দীরাই ছিলেন শিল্পী, দর্শক, শ্রোতা । গান, কবিতা আবৃত্তি, ছোট নাট্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কারাগারের প্রাঙ্গন । মুহূর্তের জন্য হলেও তারা ভুলে গিয়েছিল দুঃখ, কষ্ট আর বন্দী জীবনের কঠিন বাস্তবতা । যেন এক টুকরো মুক্ত আকাশ নেমে এসেছিল তাদের বন্দী জীবনে ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার রফিকুল ইসলাম । তিনি বন্দীদের উদ্দেশ্যে উত্সাহব্যঞ্জক বক্তব্য রাখেন । তাঁর কথায় উঠে আসে মানবিকতা, সংশোধন এবং নতুন জীবনের প্রত্যাশা । তিনি বলেন, জীবন থেমে থাকে না । ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করার সুযোগ সবারই আছে।
ঈদের এ আয়োজন শুধু আনন্দের খোরাকই জোগায়নি, বরং বন্দীদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো । কারাগারের দেয়ালের ভেতরেও যে মানবিক অনুভূতি, ভালোবাসা আর উত্সবের আনন্দ বেঁচে থাকতে পারে সেই বার্তাই যেন ছড়িয়ে পড়েছে এ বিশেষ দিনে।
কারাগারের সেই সীমাবদ্ধ প্রাঙ্গণে ঈদের দিনটি হয়ে উঠেছিল এক ব্যতিক্রমী আনন্দ, উত্সব- যেখানে বন্দীরা খুঁজে পেয়েছিল জীবনের নতুন অর্থ, নতুন দিন।