
নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ :
দেশের অনেক গ্রাম এখনও শিক্ষার আলো থেকে পুরোপুরি আলোকিত হতে পারেনি। তবে ব্যতিক্রমও আছে। তেমনি একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জগতলা গ্রামের সর্দার গোষ্ঠী । এ গোষ্ঠীর মানুষেরা শিক্ষাকে জীবনের সবচেয় বড় সম্পদ হিসেবে গ্রহন করেছে । ফলে আজ এ গোষ্ঠীর মানুষ প্রায় শতভাগ শিক্ষিত। যা দেশের গ্রামীন সমাজে সত্যিই একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ।
জগতলা গ্রামের সর্দার গোষ্ঠীর প্রতিটি পরিবারেই শিক্ষার প্রতি রয়েছে গভীর আগ্রহ ও সচেতনতা ।এখন প্রতিটি বাড়িতেই এক, দু'জন সদস্য সরকারি- বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। আবার অনেকেই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। ফলে এ গোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার ধারাবাহিকতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সর্দার গোষ্ঠীর প্রথম শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন মরহুম ফজলুল হক । তিনি ছিলেন ১৯৫০ দশকের গ্র্যাজুয়েট । তিনি জামিরতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ।
তাঁকে অনুসরণ করেই সন্তানদের শিক্ষিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন গোষ্ঠীর অন্য অভিভাবকেরা। তাঁরা মনে করেন, শিক্ষাই পারে একটি পরিবার, সমাজ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। সেই চিন্তা থেকেই তাঁরা নিজেদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠিয়েছেন । আজ এ গোষ্ঠীর সন্তানেরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সরকারি বড় বড় পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু শিক্ষায় নয়, সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধেও সর্দার গোষ্ঠীর মানুষেরা অন্যদের জন্য উদাহরন হয়ে উঠেছে । গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড, শিক্ষা সহায়তা ও গ্রাম উন্নয়নমূলক কাজে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন । ফলে জগতলা গ্রামটি ধীরে ধীরে শিক্ষাবান্ধব গ্রামে পরিণত হয়েছে ।
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করেন, জগতলা গ্রামের সর্দার গোষ্ঠী অন্য গ্রামগুলোর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। এ গোষ্ঠীর সন্তানেরা শিক্ষা দীক্ষায় অনেক এগিয়ে গেছেন।
জগতলা গ্রামের সর্দার গোষ্ঠী প্রমাণ রেছে, অদম্য ইচ্ছা শক্তি, সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা থাকলে একটি গোষ্ঠীও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে । তাদের এ আলোকিত পথচলা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে প্রেরণার উত্স ।