
নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ:
জেলার শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের চর বর্নিয়া ঘাট। বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত এই ঘাট যেন প্রতিদিনের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল থেকে সন্ধ্যা নিরন্তর মানুষের ভিড়, অটোরিকসা, ভ্যান, মোটরসাইকেল আর নৌকার আসা-যাওয়া-সবমিলিয়ে এক ব্যস্ত জনপদের প্রতিচ্ছবি।
এই ঘাটের ঠিক ওপারেই পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা সদর। দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে প্রতিদিনের যাতায়াত নির্ভর করে এই নদী পারাপারের ওপর। কেউ কাজে যায়, কেউ বাজারে, কেউবা শিক্ষা, চিকিত্সার প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ভরসা রাখতে হয় নৌকার ওপর।
চর বর্নিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পারে সারি সারি অটোরিকসা দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীদের অপেক্ষায় মাঝিরা ব্যস্ত, আর যাত্রীরাও পারাপারের জন্য আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কেউ তাড়াহুড়ো করে নৌকায় উঠছেন, কেউ মালপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নদীর স্রোত আর সময়ের চাপ দু'য়ের মাঝেই চলছে জীবনের লড়াই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ জানান, এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হয়। কিন্তু এখানে দরকার একটি সেতু। সেতুর অভাবে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে যায়, অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মোক্তার হোসেন যাত্রী বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করি। একটি সেতু থাকলে আমাদের অনেক কষ্ট কমে যেত। সময়ও বাঁচত, ঝুঁকিও থাকতো না।
স্থানীয়দের দাবী চর বর্নিয়া ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। কারন, এই ঘাটে সেতু নির্মিত হলে পাবনার বেড়া উপজেলার সাথে শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, বেলকুচি উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। পাশাপাশি যমুনা সেতুর সাথেও সহজ সংযোগ তৈরি হবে, যা ঢাকার সাথে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ করে তুলবে।
চর বর্নিয়া ঘাট আজ শুধু একটি পারাপারের স্থান নয়, এটি হাজারো মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক। সময়ের দাবী-এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা।
সেতু নির্মিত হলে বদলে যাবে এই জনপদের চিত্র- কমবে দূরত্ব, বাড়বে সম্ভবনা আর হাসবে চর বর্নিয়ার মানুষেরা।