
সাগর মিয়া,রংপুরঃ
রংপুরে মাদক পাচারবিরোধী অভিযানে একটি পিকআপ ভ্যানসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর-লালমনিরহাট সড়কের কালীগঞ্জ উপজেলার সিরাজুল মার্কেট এলাকায় একটি সন্দেহজনক পিকআপ ভ্যানের গতিবিধি নজরে আসে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের।
পুলিশ ধাওয়া শুরু করলে পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত গতিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পালানোর একপর্যায়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় পৌঁছালে পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি বিদ্যুতের পিলারে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার সুযোগে চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আগাম সতর্কতা ছিল কি না—সে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ ও লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে চালকবিহীন পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ভ্যানটির ভেতর থেকে ৮৮৫ বোতল বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত মাদকগুলো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। বিশেষ করে রংপুর-লালমনিরহাট-গঙ্গাচড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চালক পালিয়ে যাওয়ায় মাদক পাচার চক্রের মূল হোতাদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
পিকআপ ভ্যানটির মালিকানা, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পূর্ববর্তী চলাচলের তথ্য যাচাই করে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান জানান, উদ্ধারকৃত মাদক ও যানবাহন জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার না করা হলে এ ধরনের পাচার অব্যাহত থাকবে।
নিয়মিত চেকপোস্ট, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় সোর্স ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।