
সাগর মিয়া, রংপুরঃ
সারাদেশের মতো রংপুরেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রংপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন। প্রথমে রংপুর-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের প্রতীক প্রদান করা হয়।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-১ আসনে ৬ জন, রংপুর-২ আসনে ৫ জন, রংপুর-৩ আসনে ৮ জন, রংপুর-৪ আসনে ৮ জন, রংপুর-৫ আসনে সর্বোচ্চ ১০ জন এবং রংপুর-৬ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জন। প্রতীক বরাদ্দকে ঘিরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের নির্ধারিত প্রতীক গ্রহণ করেন। এ সময় প্রার্থীদের সমর্থকরা স্লোগান ও মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন।
প্রতীক হাতে পাওয়ার পরপরই অনেক প্রার্থী নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং মাঠপর্যায়ে প্রচারণার প্রস্তুতি শুরু করেন। এবারের নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনেই ত্রিমুখী ও বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। বিশেষ করে রংপুর-৪ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এখানে জামায়াত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে এনসিপিকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
অন্যদিকে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে এনসিপি তাদের দলীয় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছে। এদিকে রংপুর-৩ সদর আসন এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা: আনোয়ারা ইসলাম রানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রার্থিতা ভোটারদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে রংপুরে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারিও থাকবে বলে জানানো হয়। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আজ থেকেই রংপুরের ছয়টি আসনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা পুরোদমে শুরু হলো। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, রংপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।