
রংপুর প্রতিনিধি
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের রংপুর মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বিশিষ্ট লোকসঙ্গীতশিল্পী ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন। ঘোষিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কাকসু) থেকে উঠে আসা এই নেত্রী।
প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাওয়া রেজেকা সুলতানা ফেন্সী একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে গুণী লোকসঙ্গীতশিল্পী, আইনজীবী, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ। ১৯৬২ সালের ৩ জানুয়ারি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার কে এ কুদ্দুস ছিলেন রাজনীতিবিদ ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং মা মোছা. ফাতেমা জহুরা ছিলেন গৃহিণী।
শিক্ষাজীবনে তিনি রংপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। একই কলেজের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি রংপুর সরকারি আইন মহাবিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি রংপুর স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ফেন্সী কাকসু নির্বাচনে কমনরুম বিষয়ক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপে—১৯৮৪ সালের হরতাল, ১৯৮৬ সালের অবৈধ সংসদ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৮৭ সালের ‘হঠাও স্বৈরাচার’ আন্দোলন এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি শহর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, জাসাসের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি, রংপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে গ্রেফতার নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদানেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের বিশেষ গ্রেডের সংগীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় তাকে সম্প্রচারমাধ্যমে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন রেজেকা সুলতানা ফেন্সী। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি সাহস, সততা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তার মনোনয়নকে রংপুর অঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।