
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাহিনীর সকল পর্যায়ের অফিসার ও ফোর্সকে পেশাদারিত্ব, সততা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
শনিবার (২৩ মে ) সকাল ১০টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মোঃ হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ মাহফুজুর রহমান, ডিসি (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এবং উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক জনাব মারুফ আহমেদ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে গত মাসিক কল্যাণ সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। পুলিশ কমিশনার মনোযোগ সহকারে সকলের বক্তব্য শুনে উপস্থাপিত সমস্যাসমূহের বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। যেসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, সেগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শাখাকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।।সভায় বক্তব্যকালে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, বর্তমান সময়ে পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নয়; জনগণের আস্থা অর্জন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনগণ পুলিশের কাছে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশি দায়িত্বশীল, সৎ ও পেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অসদাচরণের সুযোগ নেই। পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের ধরনই বাহিনীর ভাবমূর্তি নির্ধারণ করে। তাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনয়ী ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পুলিশ কমিশনার সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাদক, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটকে নিয়মিত টহল, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কমিউনিটি পুলিশিং বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সভায় তিনি বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনেও শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সহকর্মীদের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে পুলিশ কমিশনার সকল সদস্যকে জনগণের সেবক হিসেবে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাবমূর্তি আরও সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।