
রংপুর প্রতিনিধি
শ্রমিক সমাজের মধ্যে আদর্শিক চেতনা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের লক্ষ্যে রংপুর মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রংপুর মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এ শিক্ষা শিবিরে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমীর এ টি এম আজম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি দক্ষ, সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তুলে বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি রংপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আল-আমিন হাসান বলেন, একটি শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলতে দায়িত্বশীলদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি শ্রমিকদের কল্যাণে নিবেদিত থেকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান। শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. কাওছার আলী। তিনি শ্রমিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক চেতনা জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি মো. শাহানত মিয়া। তিনি সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সদস্য বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে ইসলামী শ্রমনীতি, নেতৃত্ব বিকাশ, সাংগঠনিক কাঠামো, শ্রমিকদের অধিকার ও দায়িত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপটে শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সমাপনী পর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।