
সাগর মিয়া, রংপুরঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির ও শায়খুল হাদিস মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)-এর রংপুর আগমন উপলক্ষে রংপুর মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল স্বাগত র্যালি।
বুধবার বিকেলে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই র্যালি রংপুর শহরকে পরিণত করে এক উৎসবমুখর পরিবেশে।র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’ সম্বলিত পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন।
বিভিন্ন দাবি ও বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং স্লোগানে স্লোগানে পুরো নগরীতে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত অবস্থান ফুটে ওঠে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে র্যালিটি নগরীর সিটি বাজারে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর রংপুর মহানগর ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং আগামীকালের জনসভা সফল করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
মিছিলে রংপুর-৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর এমপি পদপ্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ, ঠিক তখনই পীর সাহেব চরমোনাই সত্য ও ন্যায়ের ডাক নিয়ে রংপুরের মাটিতে আসছেন। এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয় এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও বেগবান করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীক ছাড়া এ দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। যারা গণভোটে ‘না’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা মূলত দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া চায় না। তারা যতই অপপ্রচার চালাক না কেন, ইনশাআল্লাহ আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয় নিশ্চিত হবে এবং দেশের প্রকৃত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতি সালে আহমেদ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের মানুষ অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আগামীকালের জনসভায় পীর সাহেব চরমোনাই হুজুর এই অঞ্চলের মানুষের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ রক্ষার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
তিনি প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন,আমরা আশা করি, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।স্বাগত র্যালি ও সমাবেশ ঘিরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা জানান, পীর সাহেব চরমোনাইয়ের উপস্থিতিতে আগামীকালের জনসভা রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন বার্তা ও দিকনির্দেশনা দেবে।