
সাগর মিয়া, রংপুরঃ
নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে হেনস্তা ও চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর নগরীর সরেয়ারতল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় মাহবুবার রহমানকে লক্ষ্য করে ‘দোসর’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে আনে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান অভিযোগ করে বলেন, পীরগাছা থেকে একটি জানাজায় অংশ নিতে রংপুর নগরীর উদ্দেশে রওনা হলে ৭-৮টি মোটরসাইকেলে করে এনসিপি ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী তাকে ধাওয়া করেন। সরেয়ারতল এলাকায় পৌঁছালে তারা গাড়ি ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে একটি মব তৈরি করে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই এই হামলা।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের অর্থ প্রদান করছিলেন। সাধারণ মানুষ প্রথমে তাকে আটকে দিলে পরে এনসিপি নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন, জাপা প্রার্থী পরে শহর থেকে লোক ভাড়া করে এনে এনসিপি ও জামায়াত কর্মীদের অবরুদ্ধ করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা এলাকায় জড়ো হন। এতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা পারুল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে মাহিগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন পীরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির বজলুর রশিদ মুকুল। তিনি বলেন, “কোনো প্রার্থীকে হেনস্তা করার ঘটনায় জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়।”
রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি শান্ত করে। একজনকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।