
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মৌয়াগাছা মাঝাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লিখিত মুচলেকা অঙ্গীকার করে পুনরায় মাদক কেনাবেচা শুরু করার অভিযোগ উঠেছে শ্রী সুধাংশু চন্দ্র রায়-এর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুধাংশু চন্দ্র রায় দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু যুবক ও কিশোর মাদকের প্রলোভনে পড়ে বিপথে চলে গেছে, এমন অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর, মৌয়াগাছা মাঝাপাড়ায় এক বিশেষ গ্রাম্য সালিশ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন চৌধুরী ফাউন্ডেশন সভার আয়োজন করেছিল। সালিশে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি লাবলু চৌধুরী। সভার মাধ্যমে সুধাংশু চন্দ্র রায়ের প্রতি লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছিল, যাতে তিনি পুনরায় মাদক ব্যবসা করতে যাবেন না। যদিও সালিশের পর প্রথম দিকে পরিস্থিতি শান্ত ছিল, কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে সুধাংশু চন্দ্র রায় পুনরায় মাদক কেনাবেচা শুরু করেছেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এর ফলে গ্রামের যুবসমাজ আবারও বিপথে ধাবিত হতে পারে। মৌয়াগাছা মাঝাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী সচেতনতা, বৃক্ষরোপণ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বই বিতরণ এবং দরিদ্র মানুষের সহায়তা সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে চৌধুরী ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে সচেতনতা মূলক সভা, মাইকিং, মানববন্ধন, কাউন্সেলিং এবং গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
চৌধুরী ফাউন্ডেশনের সভাপতি লাবলু চৌধুরী বলেন, আমরা সবসময় মাদক ব্যবসার কঠোর বিরোধী। সমাজের স্বার্থে আমরা যুবসমাজকে বিপদে পড়া থেকে রক্ষা করতে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করব। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা চাই প্রসাশন তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনুক।
গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লতা পারুল বলেন, গ্রামে মাদক ব্যবসার কোনো স্থান নেই। আমরা আশা করি প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের অপরাধ সামাজিক শান্তি নষ্ট করে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন,তার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাদক মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার কথা শুনেছিলাম। এখন তিনি পুনরায় মাদকের সাথে জড়িত কিনা আমি এ বিষয়ে বলতে পারব না। যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা মাদক ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।