
রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই তারা এই প্রতিক্রিয়া জানান। মকবুল হোসেন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই যথাযথ বিচার নয়। আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের অনেকেই সর্বোচ্চ শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী অনেক আসামিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বড় অপরাধীদের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত ছোটদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “আরও বেশি আসামির ফাঁসি হলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেতাম। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমার ছেলে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।” উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও বেশ কয়েকজনকে ১০ বছর, ৫ বছর ও ৩ বছরের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।
এদিকে, সহপাঠী ও সহযোদ্ধাদের মধ্যেও রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, “গুরুতর অপরাধে জড়িত অনেকের শাস্তি তুলনামূলক কম হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।” আরেক সহযোদ্ধা আশিকুর রহমান আশিক অভিযোগ করে বলেন, “এটি ছিল একটি স্পষ্ট পুলিশি হত্যাকাণ্ড। অথচ সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে মামলার বাইরে রাখা হয়েছে।”
মামলার সাক্ষী আরমান হোসেনও রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত অনেকের শাস্তি প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”
পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই রায় পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।