
রংপুর সংবাদদাতা
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনহাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগসংক্রান্ত ডোনেশনের ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। আজ রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের মেনাজবাজার গোল্ডেনঘাট এলাকায় ‘সর্বস্তরের এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হারাগাছ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নয়ন মনি। এ সময় বক্তব্য দেন ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন, অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম, পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত ওই তিনজন বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য মোট ১৪ লাখ টাকা ডোনেশন দেন। কিন্তু ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে ওই অর্থ ব্যয় না করে প্রধান শিক্ষক তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিয়োগসংক্রান্ত ডোনেশনের ১৪ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থ ব্যয়ের দাবি জানান তারা। তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অভিযোগটি সত্য নয়। কিছু ব্যক্তি আমার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।”
এ বিষয়ে বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, কাজের চাপের কারণে এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করা হবে। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা, অর্থের প্রকৃত উৎস ও ব্যয়ের হিসাব তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।