
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়ায় প্রতিবেশী এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইভটিজিং, উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১২ বছর বয়সী এক এতিম স্কুলছাত্রীর। এ ঘটনার পর আতঙ্কে দুই দিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না পঞ্চম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্ত মিয়া (৪৫)-এর বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির স্বজনরা।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শিশুটির বাবা-মা মারা যান। এরপর থেকে সে নানাবাড়িতে নানীর আশ্রয়ে বড় হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে সে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মোস্ত মিয়া স্কুলে যাওয়া-আসার পথে শিশুটিকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও অশালীন কথা বলে আসছিলেন। বিষয়টি শিশুটি তার নানীকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে মোস্ত মিয়াকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির বাইরে বের হলে মোস্ত মিয়া তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। শিশুটি এর প্রতিবাদ করলে মোস্ত মিয়ার স্বজনরা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শনিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটি, তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। এদিকে, বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে পুনরায় উত্ত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত শিশুটি রবিবার ও সোমবার স্কুলে যায়নি।
শিশুটির নানী বলেন, “শনিবারের ঘটনার পর থেকে আমার নাতনী খুব ভয় পেয়ে গেছে। কারও সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলছে না। সবসময় ঘরের ভেতরে বসে থাকে। স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। দুই দিন ধরে স্কুলেও যায়নি।” তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সবার সঙ্গে কথা বলেছে। তবে মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মিয়া, সরুজ মিয়াসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, মোস্ত মিয়া শুধু ওই শিশুটিকেই নয়, গ্রামের আরও কয়েকজন শিশু-কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে তারা শুনেছেন। তবে সামাজিক সম্মান ও লজ্জার কারণে অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, “এ বিষয়ে কেউ আমাকে অভিযোগ দেয়নি। সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। কাউনিয়া থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলছি।” কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। সেদিনের ঘটনাটি মামলা রুজু করার মতো পর্যায়ে ছিল না। তবে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হলে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য বলা হয়েছে।” অভিযুক্ত মোস্ত মিয়া বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে জানান, ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি বাবার কাছে বিষয়টি জানতে চান। তার বাবা প্রতিবেশী নাতনী হওয়ায় শিশুটির সঙ্গে মজা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। ওই ঘটনার জন্য তিনি বাবার পক্ষ থেকে শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিশুটির নিরাপত্তা, নির্বিঘ্নে স্কুলে যাতায়াত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।