
রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরের কাউনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত যুবক পলাশ মিয়ার (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারি গ্রাম থেকে মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই ইউনিয়নের আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত সাদুল্ল্যাহর ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পলাশদের অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি তাঁর চাচা জাফরের কাছ থেকে গোপনে কেনার চেষ্টা করেন মোজাহার আলী। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে মোজাহারের কাছে জমি কেনার বিষয়ে জানতে চান পলাশ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পলাশের চাচা জাফর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে বিষয়টি মোজাহার তাঁর দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ স্বজনদের জানান। ওই রাতেই পলাশ তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে এক ব্যক্তির কাছে টাকা আনতে গেলে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া তাঁকে মারধর করেন। আত্মরক্ষায় পলাশ দৌড়ে তিনমাথা মোড়ের বাজারে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মোজাহার, তাঁর ছেলেরা ও সহযোগীরা লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ছেলেকে বাঁচাতে পলাশের মা ও মেজ ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত পলাশকে উদ্ধার করে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পলাশের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হারাগাছ থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পলাশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। হারাগাছ থানার পরিদর্শক অশোক চৌহান বলেন, বুধবার দুপুরে মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সাত ঘণ্টার মধ্যেই মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।