
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানাধীন আরাজী বীরচরণ গ্রামে পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে হারাগাছ থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর মহানগরের সাহেবগঞ্জ তিনমাথা মোড়ে ‘সচেতন ছাত্রসমাজ’-এর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পলাশের স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের মা আকলিমা খাতুন, মেজো ভাই আশরাফুল, ভাবী খাতিজা বেগম, বোনজামাই আজাদ মিয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির রহমান, নাহিদ ইসলাম, আজাহার কবীর ও মাকারিম চৌধুরী। নিহতের মেজো ভাই আশরাফুল অভিযোগ করে বলেন, গোপনে জমি কেনার পাঁয়তারার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে গত ১০ আগস্ট রাতে মোজাহার আলী ও তার দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ কয়েকজন আত্মীয় লোহার রড, হাতুড়ি, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাহেবগঞ্জ তিনমাথা বাজারে পলাশের ওপর হামলা চালান। এতে পলাশ গুরুতর আহত হন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার রাতে আহত পলাশকে নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি। পরে পলাশের মৃত্যুর পর হত্যা মামলা করা হয়।
নিহতের মা আকলিমা খাতুন বলেন, তাঁর চোখের সামনেই প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে মারধর করে। মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর ছেলে মারা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার কবীর, সাব্বির রহমান ও মাকারিম চৌধুরী অভিযোগ করেন, বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে পলাশকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হলেও তখন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত সাব্বির, সজিব, মানিক, সোনা, মনছুর ও মিটুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
তাঁরা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পলাশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে হারাগাছ থানা ঘেরাও, হরতালসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। নিহত পলাশ কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ থানাধীন আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার পরিদর্শক (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, ১০ আগস্টের ঘটনার পর পুলিশকে তেমনভাবে জানানো হয়নি।
১৯ আগস্ট বুধবার মামলা হওয়ার পরপরই ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানান তিনি।