
রংপুর প্রতিনিধি
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নীলফামারীর কচুকাটা ফুটবল একাডেমিকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি। উত্তেজনা ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে মাঠে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক দর্শক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তারাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদকবিরোধী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি। অন্যদিকে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে ওঠে কচুকাটা ফুটবল একাডেমিও। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলটি এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কচুকাটা। তবে সৈয়দপুরের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি দলটি। বিরতির পর গোল পরিশোধে আরও মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে কচুকাটা ফুটবল একাডেমি। একের পর এক আক্রমণ চালালেও সৈয়দপুরের জমাট রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি তারা। ম্যাচের শেষদিকে কচুকাটা যখন সমতা ফেরাতে মরিয়া, তখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণে যায় সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি।ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল করে সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি।
এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় দলটি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তোলে সৈয়দপুর ফুটবল একাডেমি। আর রানার্সআপ হয় নীলফামারীর কচুকাটা ফুটবল একাডেমি। খেলা শেষে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর -২ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসন ৩০৮-এর সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা এমপি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পরে অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা তৈরি হয়। মাঠে তরুণদের ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী এমন আয়োজন সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।