
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা ও টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মহির উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তার মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় পড়ে ছিল।
নিহত মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহির উদ্দিন তার ছোট স্ত্রী ও দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলামকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। ছোট ছেলে রশিদুল মাদকাসক্ত হওয়ায় কয়েকদিন ধরে তাকে মুদি দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও তার বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রশিদুল দোকানে গিয়ে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বড় ভাই মাইদুল বাধা দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে মারামারি শুরু হয়। এ সময় সদরবাজার থেকে মুদি মালামাল নিয়ে মোটরসাইকেলে দোকানের সামনে আসেন মহির উদ্দিন। চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে বড় ছেলে ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখে। নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দুই ছেলের মারামারি দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মহির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। এর আগেও তিনি দুইবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসক তাকে হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দিলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা করাতে পারেননি। কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, স্বজনরা জানিয়েছেন, দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মহির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, “ছেলেদের মারামারি দেখে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। নিহতের বড় স্ত্রীর ছেলে জেলার বাইরে থেকে আসার পর পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”